দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকবেন এই উপায় গুলো মেনে চললে
দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকবেন এই উপায় গুলো মেনে চললে
০৮ নভেম্বর বুধবার , ২০২৩
আমরা দৈনন্দিন জীবনে নানা কিছু সমস্যার কারণে দুশ্চিন্তায় ভুগি। এটি আমাদের সমাজ দুরারোগ হিসেবে এখন বেশি হয়ে থাকে। কর্মব্যস্ততা, আর্থিক সমস্যা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত জীবন এর বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমরা অনেক দুশ্চিন্তায় ভুগি। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মানসিকভাবে দুশ্চিন্তার কারণে হার্টের সমস্যা হয়ে থাকে যা মূলত হার্ট এটাকের প্রধান কারণ।
আমাদেরকে দুশ্চিন্তা মূক্ত থাকতে হলে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে চলতে হবে। এতে করে আমরা দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে পারবো এবং হার্ট এটাকের মত সমস্যা হতে আরে হ্যাঁ পাব। তবে চলুন জেনে নেয়া যাক দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার কিছু উপায় —
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
ড. হেফনার বলেন “ইয়োগা, ধ্যান কিংবা তাই-চি ইত্যাদি শরীরে দুশ্চিন্তা সৃষ্টিকারী হরমোনের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।”
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা নিয়মিত ইয়োগা করেন তারা তুলনামূলক কম শারীরিক সমস্যা বা প্রদাহে ভোগেন। বিভিন্ন দুরারোগ্য শারীরিক সমস্যার মধ্যে গা-ব্যথা অন্যতম। পরে যা থেকে হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে।
ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলুন
মনের মধ্যে ক্ষোভ জমা করে রাখার অভ্যাস কখনোই হৃদযন্ত্রের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। গবেষনায় দেখা গিয়েছে ক্ষমা করার পরিবর্তে ক্ষোভ জমা করে রাখলে মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং সেই সঙ্গে হৃদ্ররোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ে।
প্রাণ খুলে হাসুন
২০০৫ সালে পরিচালিত গবেষণায় জানা যায় সবসময় গম্ভীর থাকার বদলে প্রাণ খুলে হাসলে শতকরা বিশভাগ বেশি ক্যালরি পোড়ানো যায়। হাসি খুশি থাকলে হৃদরোগ সমস্যা কত দূরে থাকা যায়। মানসিকভাবে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে পারি। মনের প্রশান্তি আসে এবং বিভিন্ন রোগ ব্যাধি হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন
অতিরিক্ত মদ্যপান দেহে ট্রাইগ্লিসারিনের এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদপিণ্ড অকার্যকর করে দিতে পারে।
অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত মদ্যপান বরং দেহকে হৃদরোগ থেকে দূরে রাখে। তবে এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত মদ্যপান বলতে পুরুষদের জন্য দিনে বড়জোর দু’গ্লাস এবং মহিলাদের জন্য দিনে খুব বেশি হলে এক গ্লাস বোঝায়।অতিরিক্ত অ্যালকোহল আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তাই যতটা সম্ভব এটি এড়িয়ে চলুন।
তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারের প্রতি অতিরিক্ত আবেগী মনোভাব দূর করা উচিত।
উদাহরনস্বরূপ, গবেষকদের মতে প্রিয় ফুটবল দলের পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার হারও বেড়ে যায়।
তাই তুচ্ছ কারণে উত্তেজিত হবেন না। কারণ জীবনের মূল্য এর চেয়ে ঢের বেশি।
সঠিক খাবার খান
লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য কম পরিমাণে এবং শাক-সবজি, ফল, মাছ এবং শস্যদানা বেশি পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস শুধু ওজনই নিয়ন্ত্রেণে রাখবে না পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে আর হঠাৎ বিপদের হাত থেকে দূরে থাকা যাবে।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া
মাঝেমধ্যে সময় বের করে বন্ধুবান্ধব, ভাই বোন বা আত্মীয় স্বজনদের সাথে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস করে তুলতে হবে। এতে মনের ভাব একে অন্যের সাথে আদান প্রদান করা সম্ভব হয় এবং হাসিখুশি থাকা যায়। মানসিকভাবে ভালো থাকতে হলে আমাদেরকে সকলের সাথে মিলেমিশে হাসিখুশি ভাবে দিন যাপন করা উচিত।
নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখতে পারাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমাদের সমাজে দেখা দেয়। দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে নিজেকে অনেক পরিশ্রমই এবং হাসিখুশি রাখাটা খুব বেশি জরুরী।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url